ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ফল ঘোষণা হওয়ার পর দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। আনন্দ মিছিল, শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্বতঃস্ফূর্ত বিজয়োৎসবে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এ বিজয় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম মাহফুজুর রহমান টুটুল বলেন, ‘বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিভিন্ন দলের শক্ত অবস্থানের মধ্যেও কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির এমন স্পষ্ট জয় দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনভিত্তির দৃঢ়তার প্রমাণ।’ তার মতে, এ ফল খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করা এবং মাঠের রাজনীতিকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিপরিষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার দাবি উঠেছে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা মাঠে পরীক্ষিত, জনবান্ধব ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক।
আলোচনা রয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে তাকে। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
নবনির্বাচিত এ এমপির কাছে দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা বহু। শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, কৃষিখাতে আধুনিকায়ন, যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নসহ সার্বিক সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কার্যকর উদ্যোগ চান তারা। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-১ আসনের ন্যায্য দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যাশাও রয়েছে।
এদিকে, এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে মরহুম আহসানুল হক পঁচা মোল্লার নাম। তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দৌলতপুরের উন্নয়নে তার অবদান আজও স্মরণ করেন এলাকাবাসী।
অনেকে মনে করছেন, সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবে উঠে এলেন রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। জনগণের ভোট ও ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়ে তিনি দৌলতপুরের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।