ঢাকা মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

বিশ্ববাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ: এআই প্রযুক্তির চাপ ও ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের আভাস এ কে আজাদের


নিউজ ডেস্ক
১৬:৫৬ - মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
বিশ্ববাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ: এআই প্রযুক্তির চাপ ও ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের আভাস এ কে আজাদের

অর্থনীতি প্রতিবেদক: দেশে ক্রমাগত উৎপাদন ব্যয় ও শ্রমিকদের মজুরি বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের কাঙ্ক্ষিত দাম বাড়াচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রেতারা (বায়াররা)। এমন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে বাধ্য হয়ে বড় ধরনের জনবল ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদ। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, ‘আমিই তো ১০ হাজার কর্মী কমাব।’

এ কে আজাদ জানান, বর্তমানে তাঁর তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

ব্যয় বৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি (ইনফ্লেশন) হচ্ছে। এই মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ায় তাঁদের বেতনও নিয়মিত বাড়াতে হচ্ছে এবং প্রতি বছর গড়ে ৯ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দিতে হচ্ছে।

হা-মীম গ্রুপের এমডি উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন খরচ এভাবে বাড়লেও তৈরি পোশাকের প্রধান দুই বাজার—আমেরিকা ও ইউরোপের বায়াররা পণ্যের দাম বাড়াতে বা বাড়তি এই ব্যয়ের দায় নিতে মোটেও রাজি নন। উল্টো বায়াররা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা কম জনবল খাটিয়ে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এই বাস্তবতায় ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে মোট ৭৫ হাজার কর্মীর মধ্য থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করতে হচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন এ কে আজাদ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের আরও দূরদর্শী ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের পোশাক খাতের টিকে থাকা এবং বর্তমান কর্মসংস্থান ধরে রাখা আগামীতে আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।