ঢাকা শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

ঢাকা–১৭ আসনে ঐক্যের রাজনীতির ঘোষণা তপু রায়হানের


নিউজ ডেস্ক
৯:৩৫ - শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬
ঢাকা–১৭ আসনে ঐক্যের রাজনীতির ঘোষণা তপু রায়হানের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা–১৭ থেকে (জেপি) সংসদ সদস্য প্রার্থী তপু রায়হান তার বহুল আলোচিত ঐক্যমতের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তপু রায়হান বলেন,

“এই ইশতেহার কোনো একক দলের নয়, এটি ঢাকা–১৭ আসনের সাধারণ মানুষের কথা, প্রত্যাশা ও অধিকারকে সামনে রেখে তৈরি একটি ঐক্যমতের দলিল। রাজনীতিকে বিভাজনের নয়, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের জায়গায় ফিরিয়ে আনাই আমার লক্ষ্য।”

নাগরিক সমস্যা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার

ইশতেহারে ঢাকা–১৭ আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও জটিল নাগরিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

নিরাপদ বাসযোগ্য এলাকা গঠন: কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি

যানজট ও অবকাঠামো উন্নয়ন: সড়ক সংস্কার, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন: কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লাইব্রেরি ও খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সেবার মান বৃদ্ধি এবং নাগরিক নজরদারি

পরিবেশ ও নগর সেবা: জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়ন

নারী ও শিশু সুরক্ষা: নারী হয়রানি প্রতিরোধ, নিরাপদ চলাচল ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম

রাজনীতিতে উত্তরাধিকার নয়, দায়বদ্ধতার বার্তা

প্রয়াত শহীদ বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিক জহির রায়হান–এর সন্তান তপু রায়হান বলেন, তার রাজনৈতিক পথচলা কোনো উত্তরাধিকারভিত্তিক সুবিধার জন্য নয়, বরং ইতিহাসের দায়বদ্ধতা থেকেই।

তিনি বলেন,

“আমার বাবার পরিচয় আমার অনুপ্রেরণা, কিন্তু আমার রাজনীতি হবে কর্ম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়া

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা, সমাজকর্মী ও পেশাজীবীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা–১৭ আসনে প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি ও নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা মনে করেন, দলীয় প্রভাবের বাইরে ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রণীত এই ইশতেহার বাস্তবায়নযোগ্য হলে এলাকার রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

*তপু রায়হান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন,* 

“নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, এটি বিশ্বাসের পরীক্ষা। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—ঢাকা–১৭–এর মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে, উন্নয়ন হবে এবং রাজনীতি হবে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক।”

ঢাকা–১৭ আসনে এই ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র ও ঐক্যমতের রাজনীতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।