ঢাকা রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

ধূমপান করতে নিষেধ করায় দোকানে হামলা-ভাঙচুর, ভিডিও ভাইরাল


নিউজ ডেস্ক
১:১৫ - মঙ্গলবার, জুন ৩, ২০২৫
ধূমপান করতে নিষেধ করায় দোকানে হামলা-ভাঙচুর, ভিডিও ভাইরাল

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কেকের দোকানের মধ্যে ধূমপান করতে নিষেধ করায় দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এসময় দোকান মালিক ও কর্মচারীদের মারধর করে আহত করা হয়েছে। 

তাদের গুলিতে নির্ঝর নামে এক সেলসম্যান আহত হন। এ সময় তারা নগদ অর্থ লুট করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 


গত ২৮ মে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২৯ মে কেকস কিং ও অনিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারির মালিক ভুক্তভোগী অনিক বাদী হয়ে ৮ জনের নামে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পুলিশের প্রতি অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


বাদী অনিকুর রহমান অনিক ভেড়ামারা পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ফারাকপুর গ্রামের মাসুদুর রহমানের ছেলে। কেকস কিং ও অনিক বেকারী অ্যান্ড কনফেকশনারির মালিক।


আসামিরা হলেন- ভেড়ামারার নওদাপাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে মিথুন সাকিব সাদু (২২), ফারাকপুর এলাকার ফারুক আলীর ছেলে ওসামা (২০), নওদাপাড়া এলাকার রশিদের ছেলে ফারুক (৪৮), একই এলাকার মৃত আব্দুল্লাহ আলীর ছেলে নিলয় (২৩), রবিন (২৩), বজু শেখের ছেলে রাব্বী শেখ (৩০), ইয়াকুব ঘটকের ছেলে রিমন (২৩) ও মির্জাপুর এলাকার শিহাব ফকিরের ছেলে রকি (২২)। 


মামলার বাদী অনিক এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার (২৮ মে) দুপুরে ভেড়ামারা বাজারে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেকস কিং নামক দোকানের মধ্যে এসে আসামি মিথুন সাকিব ও ওসামাসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন আসামি দোকানের অন্যান্য ক্রেতার সামনে ধূমপান করে। তখন দোকানের দায়িত্বে থাকা আমার স্ত্রীর বড় ভাই মো. ওয়াসিম আকরাম নির্ঝর (২৮) তাদেরকে দোকানে ধূমপান করতে নিষেধ করে। এসময় আসামিরা সেলসম্যান নির্ঝরকে মারতে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে সে তাদেরকে প্রতিহত করতে গেলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও নষ্ট করে। এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতি সাধনসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলে যায়। 


পরবর্তীতে দুপুর দেড়টার দিকে আমার অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অনিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারিতে আসামিরা তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় ধারালো রামদা, হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, লোহার পাইপ, লোহার রড, হাতুড়ি, হকিস্টিক, কাঠের বাটাম ও লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিতে হামলা শুরু করে। দোকানে বসে থাকা আমার বাবা মো. মাসুদুর রহমানকে (৬০) চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় প্রাণে মেরে ফেলার জন্য ৬ নম্বর আসামি মো. রাব্বী শেখ তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে আমার বাবা প্রাণ বাচাতে ডান হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে লোহার রডের আঘাতে তার কব্জির ওপরে লেগে হাড় ভেঙে যায়। 


বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেছেন, এ সময় দুই নম্বর আসামি ওসামা দোকানের ক্যাশের ড্রয়ারে থাকা নগদ ১২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে আসামিরা তাদের হাতে থাকা লোহার পাইপ, রড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠানের কেকের ৩টি ফ্রিজ, আইসক্রিমের ২টি ডিপ ফ্রিজ, ইলেকট্রিক ওভেন, সিসি ক্যামেরা, মনিটরসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। পুনরায় একই তারিখ দুপুর অনুমান ৩টার দিকে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেকস কিং নামক দোকানে এসে তিন নম্বর আসামি মো. ফারুক তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রীর বড় ভাই ও সেলসম্যান মো. ওয়াসিম আকরাম নির্ঝরকে গুলি করলে গুলিটি তার পায়ে লেগে সে আহত হয়। এ সময় আসামিরা দোকানের অন্যান্য কর্মচারীদের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মেরে জখম করে। 


ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অনিক বলেন, কেকের দোকানের মধ্যে ক্রেতাদের সামনে ধূমপান করছিল আসামিরা। তাদেরকে ধূমপান করতে নিষেধ করায় তারা দফায় দফায় আমার দুইটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তারা দোকানের কর্মচারীদের মারধর করে আহত করে। তাদের গুলিতে নির্ঝর নামে এক সেলসম্যান আহত হয়। তাদের হামলায় অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। 


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করেছে না। আসামিরা হুমকিধামকি দিচ্ছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।


ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি তদন্ত) রকিবুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। 


কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।