ঢাকা মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

সংবিধান মানলে খালেদা জিয়া সেদিন জেল থেকে বের হতে পারতেন না


নিউজ ডেস্ক
১৭:৩৮ - মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬
সংবিধান মানলে খালেদা জিয়া সেদিন জেল থেকে বের হতে পারতেন না

সংবিধানকে বাইবেল বা গসপেল ধরে নিলে বেগম খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা -৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের উপর জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিধি ৬২ উপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। 


তিনি বলেছেন, ৬ আগস্ট সর্বপ্রথম ছাত্রজনতা যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর এক মুহূর্তও বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে দেবে না। বেগম জিয়াকে রাষ্ট্রপতির আদেশের মধ্য দিয়ে বের করে আনা হয়েছিল। যদি এই সংবিধানকে বাইবেল ধরে নেন, এই সংবিধানকে যদি গসপেল ধরে নেন, তাহলে সেদিন বেগম জিয়া জেল থেকে বের হতে পারেন না।


তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমাদের সর্বশ্রদ্ধেয় সাংসদ আন্দালিক রহমান পার্থ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন উনি যখন বললেন যে, সংবিধান যারা ছুড়ে ফেলতে চায় তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধীর সাথে উনি এলাইন করলেন, টেগ করলেন। তখন ট্রেজারি বেঞ্চের মন্ত্রী যারা ছিলেন তারা সেটাকে টেবিলচাপ দিয়ে সেটাকে সমর্থন দিলেন। 


তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য যিনি আপসহীন লড়াই করে গিয়েছেন বেগম জিয়া। উনি বলেছিলেন যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে যেদিন এই পার্লামেন্ট জনতার সরকারের কাছে যাবে এদিন এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে। ব্যাঞ্চের যারা ছিলেন তারা দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সাথে রাজনীতি করেছেন। এই সংবিধান ছুড়ে ফেলার সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধ অপরাধীর এলাইন করার যেটার হাততালি তারা দিয়েছেন, সেটির মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে তারা মূলত হচ্ছে অপমান করেছেন কিনা তারা সেটা ভেবে দেখবেন।


হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানের কিছু কিছু বিষয়কে উনারা সম্মান দিয়েছেন। কিছু কিছু বিষয়কে উনারা সম্মান দেয়নি। তার মানে এই অভ্যুত্থানের পরে এই সংবিধানের কিছু অংশ উনারা মেনেছেন। কিছু অংশ উনারা মানেননি। উনারা কেবল ওই অংশটাই মেনেছেন যেই অংশটা উনাদের পক্ষে গিয়েছে। যে অংশটা উনাদের বিপক্ষে গিয়েছে এই অংশটা উনারা মানেননি।


‘এই ধরনের প্রকৃতি সম্পন্ন যারা আছেন বাংলাদেশের পার্লামেন্ট যারা দেখছেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যারা কখনো কখনো কনফার্মিস্ট, যারা কখনো কখনো রিফর্মিস্ট তারা মূলত হচ্ছে অপরচুনিস্ট। এখন আমি সংবিধানের কিছু কিছু ধারা মানবো, কিছু কিছু ধারা মানবো না, আমি কখনো কখনো সাংবিধানিক কখনো কখনো আমি অসাংবিধানিক।"


তিনি বলেন, এই সংবিধানকে আমি ধারণ করতে চাই, মেনে চলতে চাই, সেদিন ৬৪ বিধি অনুযায়ী অটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই সংসদে প্রশ্ন রাখতে চাই, তৎকালীন বর্তমান রাষ্ট্রপতি চুপ্পু তখন বলা হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করতে হবে। সেদিন কোন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করা হয়েছিল, সেটা আমাদেরকে অটর্নি জেনারেল জানাবেন। যেই হেয়ারিংটা হয়েছিল, এই হেয়ারিং-এ উনি উপস্থিত ছিলেন কি না? তখনকার সময় যিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন ওবায়দুল হক, তিনি তখন কোথায় ছিলেন? সেই রায়ের কপিটা আমরা দেখতে চাই।


তিনি বলেন, সেদিন বেগম জিয়া জেল থেকে বের হয়েছিল অভ্যুত্থানের জনরায়ের ভিত্তিতে। ঠিক সেই সেই জায়গায় সংবিধানকে আপনারা মানছেন, যেই যেই জায়গায় সংবিধান থেকে আপনারা বেনিফিটেড হবেন।


তিনি আরো বলেন, গত ১৭ বছর ধান খেতে ঘুমাতে হয়েছে। ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মহাসচিব কান্না করে বলেছে। তাদের নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে রিক্সা চালায় চালিয়ে জীবন নির্বাহ কর। আজকে দেখেন আজকে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী তাদের রক্ত দিয়েছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কোন রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে আমি আলাদা করতে চাই না। ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের রক্ত শ্রম ঘামের মধ্য দিয়ে এই হাসিনার পতন হয়েছে।